শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং :
ভোলায় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বঞ্চনাহীন এবং বৈষম্যহীন সমাজের জন্য লড়াই করেছি- তানিয়া রব। প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ধর্ষণ হুমকি ও নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল। প্রথমবারের মতো ভোলা সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রদলের কমিটি গঠন। ফ্যাসিস্ট সরকারের মামলা হামলায় নির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা ভোলার কৃতি সন্তান মোঃ রকিবুল ইসলাম রাকিব। শিবপুর যুব কল্যাণ ফাউন্ডেশন ১৯-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। প্রথম ভোট হোক ধানের শীষে তরুণদের উদ্দেশে আব্বাস উদ্দিন তানজিল। ভোলা জেলায় ‘আপ বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা। ছাত্রশিবির ভোলা শহর শাখার ষান্মাসিক রিপোর্ট পর্যালোচনামূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত।

প্রবন্ধঃ অভিমানের গল্প, কলমেঃ সুমাইয়া ইসলাম স্নেহা।

/ ৫৪৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫

দৈনিক আলোর কাগজ

রিয়া আর সজল ছোটবেলা থেকেই বন্ধু। গ্রামের ধুলোমাখা পথ থেকে শুরু করে শহরের ঝকঝকে রাস্তায়, তারা একসাথে বেড়ে উঠেছিল। স্কুলে প্রথম দিন থেকে তারা ছিল অটুট সঙ্গী। সবাই তাদের বন্ধুত্বকে ঈর্ষার চোখে দেখতো। তারা ছিল একসাথে খেলা, একসাথে পড়াশোনা, একসাথে স্বপ্ন দেখা—জীবনের সব রঙ মিলিয়ে তাদের বন্ধুত্বের গাঁথা ছিল এক অনন্য অধ্যায়।

রিয়া ছিল মেধাবী, শান্ত স্বভাবের মেয়ে, আর সজল ছিল চঞ্চল, হাসিখুশি ছেলে। দুই জনেই ভালোবাসত পড়াশোনাকে, ছিল একে অপরের শক্তি। অনেক সময় তারা একসাথে বসে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতো—কিভাবে তারা শহরের বাইরে গিয়ে নতুন একটা জীবন গড়বে, যেখানে বাধা নয়, কেবল ভালোবাসা আর স্বপ্ন থাকবে।

কিন্তু জীবনের রাস্তায় সবসময় মধুর সুর বাজে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছোট ছোট ভুল বোঝাবুঝি তাদের মাঝখানে ঢুকে পড়ল। কখনো সজল রিয়ার কথা সঠিকভাবে শুনত না, কখনো রিয়া সজলের কিছু কথা বেশি গুরুতরভাবে নিত। কিন্তু তারা দুইজনই কখনো সরাসরি এসব নিয়ে মুখ খুলত না।

একদিন কলেজের পর, সজল রিয়াকে কিছু বলল, যা রিয়ার হৃদয়ে গেঁথে গেল এক অদ্ভুত ব্যথার মতো। সজলের উদ্দেশ্য ছিল ভালোর জন্য, কিন্তু রিয়ার কাছে সেই কথা ছিল এক তীব্র আঘাত। সে চুপ হয়ে গেল, মুখে কোনো কথা রাখল না। সজলের জন্য তার চেহারায় যে ঘৃণা আর ব্যথার ছাপ, সেটা তিনি বুঝতেই পারল না।

সজল ক্ষমা চাইল, বারবার বলল, “আমি ভুল করেছি, দুঃখিত।” কিন্তু রিয়ার গর্ব তাকে বললো চুপ থাকো, তাকে কোনোভাবেই ক্ষমা করতে পারবে না। তাই সে সজলের কাছে মুখ খুলল না। সেই থেকে তাদের মাঝে একটি অদৃশ্য দেওয়াল উঠল, যেটা দিন দিন আরো বেড়ে গেল।

বন্ধু-বান্ধব, পরিবার সবাই চেষ্টা করলো তাদের বোঝাতে, কিন্তু তারা যেন নিজেদের মনের গহীন অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছিল। তারা একে অপরকে ভুল বুঝতে লাগল, আর কথার বদলে বেড়ে উঠল অভিমান।

রিয়া প্রতিদিন চুপচাপ তার মন ভেঙে কাঁদতো, কিন্তু বাইরে হাসি ধরে রাখতো। সে জানতো, যদি একবার গর্ব ভেঙে কথা বলত, হয়তো সব ঠিক হয়ে যেত। কিন্তু সে পারতো না।

সজলও একা হতাশ হয়ে পড়ল। সে বুঝতে পারতো, সে রিয়াকে হারাচ্ছে, কিন্তু কীভাবে কাছে নিয়ে আসবে তা জানতো না। সে অনেকবার ভাবল, হয়তো অন্য কোথাও যাবার সময় এসে গেছে, কিন্তু ভালোবাসার গলিতে সে হারাতে চাইলো না।

মাস পেরিয়ে বছর হয়ে গেল। একদিন রিয়ার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। রিয়া একাকী, হতাশ আর ভীত। পরিবারের বোঝা তার কাঁধে ভরল। তখন সজল তার পাশে এসে দাঁড়াল। সে বলল, “আমি আছি তোমার পাশে, আর কিছু বলতে হবে না।”

সেই কঠিন সময়ে রিয়া বুঝল, জীবন খুব ছোট, আর অভিমান ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝির জন্য বড় বাধা হতে পারে না। সে সজলের চোখের মধ্যে দেখল আন্তরিকতা, ভালোবাসা আর ক্ষমার আশ্বাস।

“আমার গর্ব আমাকে অনেকদিন ধরে আটকে রেখেছিল,” রিয়া বলল, “কিন্তু আজ বুঝতে পারলাম, তোমার ভালোবাসাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

তারা একসাথে রিয়ার বাবার যত্ন নিল। অভিমান দূরে সরল, ভালোবাসা ফিরে এলো তাদের মাঝে। বন্ধুত্ব আরো গভীর হলো, আর তারা শিখল—যখন আমরা গর্ব ভেঙে ক্ষমা করি, তখন জীবনের সত্যিকারের সুখ পাই।

এভাবেই অভিমান তাদের জীবন থেকে ছুটে গেল, আর ভালোবাসার আলো তাদের পথ আলোকিত করল।

শ্রেণি:দ্বাদশ
বিভাগ :বিজ্ঞান
নওগাঁ সরকারি কলেজ, নওগাঁ।


এই বিভাগের আরো খবর

খবর খুজুন


এক ক্লিকে বিভাগের খবর

ক্যাটাগরি অনুসারে খুজুন